মঙ্গলবার, ৩০ Jun ২০২৬, ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

ই-টিকিটে ভাড়া কম, বিড়ম্বনা কম নয়

সকাল সাড়ে ৮টা। রাজধানীর রামপুরা সেতুর কাছে যাত্রীর জটলা। অছিম পরিবহনের টিকিট নিতে এই ভিড়। এই বাসে চড়তে ই-টিকিট লাগে।

যে আগে টিকিট  কাটবে, বাসে ওঠার লাইনে সেই আগে দাঁড়াবে। কিন্তু এ লাইন শেষমেশ ঠিক থাকে না। হুড়াহুড়ি শুরু হয়ে যায়।

ভিড় কিছুটা কমে এলে কথা হয় ই-টিকিট বিক্রেতা তৈয়ব রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘টিকিট বিক্রির নির্দিষ্ট স্থান না থাকায় যাত্রীদের জটলা বড় দেখায়। আর তারা হুড়াহুড়ি কইরাই বাসে ওঠে। লাইন মানে না। তবে ভাড়া নিয়া কোনো ঝামেলা নাই। চিল্লাচিল্লি করতে হয় না। ’

এই ব্যবস্থার আওতায় ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার থেকে রামপুরা হয়ে মিরপুরগামী একাধিক বাসে নেওয়া হচ্ছে সরকার নির্ধারিত ভাড়া। তবে রামপুরা হয়ে যাত্রাবাড়ী থেকে উত্তরাগামী বাসগুলো এই পদ্ধতির বাইরে।

অনেক যাত্রী ই-টিকেটিং চালুর পর ভাড়া নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করছে। রামপুরা থেকে কুড়িল বিশ্বরোড যাচ্ছিলেন অন্তর মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘সরকারের ঠিক করে দেওয়া ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। আগে রামপুরা থেকে কুড়িলের ভাড়া ২০ টাকা দিতে হতো, এখন ১৫ টাকা দিই। ’

সরেজমিনে দেখা যায়, নির্দিষ্ট স্থানের বাইরেও যাত্রী ওঠানামা করছে। বিনা টিকিটের যাত্রী নিচ্ছে বাসের কর্মীরা। ই-টিকিট কেনা যাত্রীরা অভিযোগ করে, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানোর ফলে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে পারছে না তারা।

মিরপুর-১ থেকে গাবতলী হয়ে সাভারের দিকে চারটি বাস চলে। শুধু একটি বাসে ই-টিকিটের ব্যবস্থা রয়েছে। আর মিরপুর-১ থেকে কলেজগেট হয়ে মোহাম্মদপুরের দিকে যাতায়াত করা প্রজাপতি ও পরিস্থান নামের দুটি বাসে ই-টিকিট পাওয়া যায়।

দেখা যায়, ই-টিকিটে গাবতলীর ভাড়া ১০ টাকা। সাভারের ভাড়া রাখা হচ্ছে ৩০ টাকা। অন্যদিকে ই-টিকিট ছাড়া বাসগুলোতে গাবতলীর ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা। সাভারের ভাড়া ৪০ টাকা। শুধু ক্যান্টনমেন্ট বাস সার্ভিস গাবতলীর ভাড়া নিচ্ছে ১০ টাকা।

মিরপুর-১ থেকে সায়েন্স ল্যাব হয়ে গুলিস্তান, মতিঝিল, যাত্রাবাড়ী ও আজিমপুরের পথে যাতায়াত করে মিরপুর মেট্রো, দিশারী পরিবহন, ট্রান্স সিলভা পরিবহন ও বাহন পরিবহনের বাস। এগুলোর কোনোটিতেই ই-টিকিটের ব্যবস্থা নেই। আবার মিরপুর-১ থেকে ফার্মগেট হয়ে শাহবাগ, গুলিস্তান ও সদরঘাটের দিকে যাতায়াত করে তানজিল পরিবহন। এসব বাসেও ই-টিকেটিং চালু হয়নি।

ই-টিকিট ব্যবস্থা চালু না হওয়ার বিষয়ে তানজিল বাসের চালকের সহকারী সুমন বলেন, ‘এটা তো মালিক জানে। তারা যেদিন ঠিক করবে, সেদিন থেকে চালু হবে। আমরা কিছু বলতে পারি না। ’

মিরপুর-১০ নম্বর থেকে ফার্মগেট, শাহবাগ হয়ে গুলিস্তান ও সদরঘাটের দিকে যাতায়াত করে খাজা বাবা, বিকল্প, শিকড় পরিবহনসহ প্রায় সাত কম্পানির বাস। এসব বাসে নেই ই-টিকিট। একই রুটে ভিন্ন ভিন্ন ভাড়া আদায় করতে দেখা যায়। কোনো বাস ফার্মগেটের ভাড়া নিচ্ছে ২০ টাকা, আবার কোনো বাসে ২৫ টাকা।

ই-টিকিট চালু হওয়ার পর নিয়মিত বাস পেতে দুর্ভোগের কথা জানিয়েছে কিছু যাত্রী। এমন অভিযোগ স্বীকার করে প্রজাপতি পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা মুন্না জানান, ই-টিকিটে মালিকের ক্ষতি হচ্ছে। তিনি বাসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি থাকা, যাত্রীদের খারাপ আচরণ ও অসহযোগিতাকে দায়ী করেন।

টিকিট কেটে দাঁড়িয়ে যাওয়া এবং বাসের জন্য অপেক্ষা করার অভিযোগও রয়েছে। মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক যাত্রী বলেন, ‘টিকিট কেনার পরও বেশির ভাগ সময় দাঁড়িয়ে যেতে হয়। এমনিতে টিকিট সিস্টেমটা ভালো। আগে হেলপার যা বলত, তাই দেওয়া লাগত। এখন তা হয় না। তবে বাসের জন্য অপেক্ষা করা লাগে। ’

নতুন টিকিট ব্যবস্থা প্রসঙ্গে প্রজাপতি বাসের টিকিট কাউন্টারে কর্মরত আরিফ বলেন, ‘আমরা কারো কাছ থেকে এক টাকাও বেশি নিই না। আর বাস কখন আসবে, এটা  তো রাস্তার জ্যামের ওপর নির্ভর করে। কখনো পাঁচ-দশ মিনিটের মধ্যে বাস দেখা যায়। আবার কখনো আধাঘণ্টাও লাগে। ’

প্রথম দিন থেকেই ঢাকা নগর পরিবহনের বাসগুলোতে ই-টিকিট ব্যবস্থা চালু রয়েছে। নগর পরিবহনের সব বাসই মোহাম্মদপুর হয়ে চলাচল করে। মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডে সরেজমিনে দেখা যায়, নগর পরিবহনসহ ৫টি বাস ই-টিকিটে চলছে।

ই-টিকিট ব্যবস্থা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায়। পরিস্থান বাসের জন্য অপেক্ষমাণ আগারগাঁওয়ের বাসিন্দা মারজানা মাহফুজ বলেন, ই-টিকিট চালু হওয়ার পর বাসের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com